Home / EVENT & MNG JOBS / খালেদার সাথে বৈঠকের কারনে আওয়ামী লীগের আনন্দেও অস্বস্তি

খালেদার সাথে বৈঠকের কারনে আওয়ামী লীগের আনন্দেও অস্বস্তি

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনীতিক, রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদসহ দেশের মানুষ। এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তারা। চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে উজ্জীবিত মতাসীন আওয়ামী লীগও। এটিকে সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা। তবে সেই আনন্দে খানিকটা বিষাদ হয়ে আছে শি জিনপিং ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, ওই বৈঠকে বর্তমান সরকারের নেতিবাচক নানা দিক তুলে ধরেছেন খালেদা জিয়া। বিশেষ করে দেশে কোনো গণতন্ত্র ও বিরোধীদের কোনো বাক স্বাধীনতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমান সরকার সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেও বিএনপির অভিযোগ। এই বৈঠকের মাধ্যমে চীনা প্রসিডেন্ট ভবিষ্যৎ বার্তা দিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন শি জিনপিং ও খালেদা জিয়ার বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা। তাই খালেদা জিয়ার এই বৈঠক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সম্পর্কে চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন দলটির নীতি নির্ধারকেরা।

ক্ষমতাসীন দলের সূত্রগুলো জানায়, চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফর দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কাছে রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে দেশ-বিদেশে আরো প্রশংসিত করেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরো উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। ভারতের পাশাপাশি চীনকেও সাথে পেয়েছে সরকার।

Loading...

এত দিন চীনকে বিএনপির অন্যতম শুভাকাক্সক্ষী রাষ্ট্র হিসেবে মনে করা হতো। সেই চীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এত বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এতে প্রমাণিত হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। আর এ সফর আওয়ামী লীগের সাথে চীনের সম্পর্ক আরো উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরকে সফল দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, কত টাকা দিলো, কত চাল দিলো, কত ডাল দিলো; এটা কোনো বিষয় নয়, বিষয়টা হলো কানেকটিভিটি। চীন আমাদের সাথে আছে। এটাই একটা পরিপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, চীন এখন সুপার পাওয়ার। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত দেখছি, তারা গঠনমূলক। এখানে চীনকে নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।দলের সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, মতাসীন দল হিসেবে এ সফরের সুফল আওয়ামী লীগই পাবে। কারণ এত দিন আওয়ামী লীগকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে মনে করা হতো। কিন্তু চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফরই প্রমাণ করে শেখ হাসিনার কূটনীতি শুধু একটি দেশকে কেন্দ্র করে নয়, প্রভাবশালী সব দেশকে নিয়েই। আর এ সফরের মধ্য দিয়ে চীনের মতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো মজবুত হবে বলেও আশাবাদী তারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে এখনো যারা প্রশ্ন তোলেন, সমালোচনা করেন, তাদের সেই প্রশ্ন কিংবা সমালোচনা জিনপিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে দূর হয়ে গেছে। পাশাপাশি শক্তিশালী একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সফর অন্যান্য রাষ্ট্রকেও বাংলাদেশের প্রতি আরো আকৃষ্ট করবে।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই আনন্দে খানিকটা অস্বস্তি হয়ে আছে শি জিনপিং এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। কারণ নানা তদবিরের পরও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে সফরসূচিতে কোনো সময় না দিয়ে বিএনপির সাথে চীনা প্রেসিডেন্টের বৈঠক রাখাকে মোটেই স্বস্তিদায়ক মনে করে না শাসক দলটি। ওই বৈঠকে সরকারের নানা সমালোচনা এবং দেশে গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা নেই বলে চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। এতে চীনের কাছে বাংলাদেশ এবং সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ুণœ হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এটাকে বিদেশীদের কাছে খালেদা জিয়ার ‘নালিশ’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে। একে রীতিমতো ‘দেশবিরোধী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও খালেদা জিয়ার অভিযোগের সমালোচনা করে বলেন, ‘কোনো জায়গা না পেয়ে বিদেশী অতিথি এলেই সেখানে গিয়ে তিনি (খালেদা) নালিশ করে আসেন, গণতন্ত্র নাই। গণতন্ত্র বানান করতে জিজ্ঞাস করলে সেটাও পারবে কি না সন্দেহ আছে! গণতন্ত্র আসলে কাকে বলে সেই সংজ্ঞাটা দিতে পারবে কি না সেখানেও আমার সন্দেহ আছে।’

প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘অনেকেই মাঝে মধ্যে বলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই। এই কথাটা শুনতে হয় কাদের কাছ থেকে, সেটি হচ্ছে সব থেকে হাস্যকর ব্যাপার। যারা অবৈধভাবে মতা দখলকারী, মতা আহরণকারী, মতা দখলকারীর হাতে তৈরি দল; যারা যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দিয়েছে-পুরস্কৃত করেছে; তাদের কাছে আজকে গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়। তারা কোন গণতান্ত্রিক পথেই তৈরি আর কোন গণতান্ত্রিক পথেই তারা মতায় গেছে? বারবার তো ধ্বংসই করেছে ও সেটাই তারা করতে চায়। এই দেশের মানুষকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, চীনকে এমনিতেই বিএনপির অন্যতম শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে মনে করা হয়। সে জন্য ওই বৈঠকে খালেদা জিয়ার বক্তব্য এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযোগকে চীন বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে পারে, যা আওয়ামী লীগ তথা বর্তমান সরকার সম্পর্কে চীনের নেতিবাচক অবস্থান তৈরি করতে পারে। সে জন্য বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ খানিকটা চিন্তিত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট যখন বিশাল বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে এলেন তখন দেশে গণতন্ত্র নেই বলে খালেদা জিয়া যে অভিযোগ করেছেন তা চরম দেশবিরোধী। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট এসে প্রমাণ করেছেন তারা সরকারের পাশে রয়েছেন এবং দেশের উন্নয়নে সব সময় সহযোগিতা করবেন। খালেদা জিয়ার নালিশে কোনো লাভ হবে না। যত দিন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে, তত দিন শেখ হাসিনা মতায় থাকবেন।

Check Also

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গোলাগুলি, পুলিশ আহত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে । পুলিশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.