Home / STORY LESSON / সোহাগী জাহান তনুর খোলা চিঠি…

সোহাগী জাহান তনুর খোলা চিঠি…

আমি সোহাগী জাহান তনু বলছি। চোখে অশ্রু আর এক বুক যন্ত্রনা নিয়ে লিখতে বসেছি। কখনো ভাবিনি এভাবে চলে যেতে হবে। তবুও পৃথিবীর মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়েছে। ওরা আমাকে বাঁচতে দেয়নি। আমার মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছে। খুব নির্মম ভাবে ওরা আমাকে হত্যা করেছে। জীবন বাঁচাতে চিৎকার করে আকুতি মিনতি করেছিলাম ওদের কাছে। আমার চিৎকার তখন ওদের কানেই পৌঁছেনি।
পাষন্ডরা আমাকে যন্ত্রনা দিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে। আমিতো নারী। আমার মতো কোন না কোন নারী ওদের মা কিংবা বোন। একটা বারের জন্যও কি ওদের এই কথাটি মনে পড়েনি।
আমিতো পড়ালেখা ও হাসি আনন্দের মধ্যে নিজের জীবনটাকে গড়তে চেয়েছিলম। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলাম। পাশাপাশি নাচ-গান শিখতাম। সহপাঠি ও এলাকার লোকজন কেউ কোন দিন বলেনি তনু খারাপ। কিন্তু আমার অবর্তমানে আমাকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। দুষ্ট লোকের কু-নজর থেকে দূরে থাকতে নিজেকে হিজাবের আড়ালে রাখতাম। কিন্তু আমার হিজাব নিয়েও আজে বাজে কথা বলা হচ্ছে। তোমরা বিশ্বাস করো আমি খারাপ মেয়ে নই।
মা-বাবার উদ্দেশ্যে বলছি, তোমাদের ছেড়ে থাকতে আমারও ভালো লাগছে না। তবুও নিয়তির নিয়ম মানতেই হবে। আমি তোমাদের চার পাশেই আছি। শুধু তোমরা আমাকে দেখতে পাওনা, আমার কথা শুনতে পাওনা। আমি সব সময়ই তোমাদের সঙ্গে আছি। তোমরা আর এক ফোটাও চোখের অশ্রু ফেলো না। তোমার এক মেয়েকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে ওরা। তোমার মেয়ের হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে সারাদেশ এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে। আজ তোমাদের হাজার হাজার ছেলে মেয়ে রাজপথে নেমে এর প্রতিবাদ করছে। রাজপথে আন্দোলন করছে। সারাদেশে মানবন্ধন, রাজপথ অবরোধ, প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ করছে তোমাদের সন্তানরা। আমি নেই তাতে কি ।
আমার হত্যাকান্ডে জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না। পৃথিবীর এই আদালত আমাকে বিচার দিতে পারুক বা নাই পারুক। আমি জানি আমার হত্যার বিচার একটি আদালতে হবেই। সেই আদালতে সবাকে সত্য কথা বলতে হবে। কেউ পালিয়ে থাকতে পারবে না। সেখানে এসে হাজির হতেই হবে।
ডিএনএ পরীক্ষা, সুরতহাল প্রস্তুতসহ পুন:ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার কবর থেকে আমার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। কষ্ট পেতে পেতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে আমাকে। এখনো কষ্ট শেষ হয়নি। আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে, বলতে পারো তোমরা।
পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, বাংলার মাটিতে এরকম ঘটনা আর যেনো না ঘটে। যারা বেঁচে আছে তার যেন সারা জীবন স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা পায়।
গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় তনুকে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেই ঘটনার আলোকে তনুকে নিয়ে এই খোলা চিঠিটি লেখা হয়েছে। তবে এই চিঠিতে তনুর কথাগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
লেখক: কামরুল হাসান মল্লিক

Loading...

Check Also

জঙ্গীদের প্রতি ঘৃনা বাড়ানোর বড়ি!

১) আজ মুসলমান সম্প্রদায়ের এক বড় উৎসব।আমার এধরনের লেখা ঠিক হচ্ছেনা তবু দেশের পরিস্থিতি আমাকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.